মাশরুম (Mushroom) কি ?

মাশরুম (Mushroom) কি ?

পৃথিবীতে প্রেয় ৩ লক্ষ প্রজাতির ছত্রাক আছে,বিভিন্ন যাচাই বাছাই করে যে সমস্ত ছত্রাক খাওয়ার উপযোগী(বিষাক্ততামুক্ত),পুষ্টিকর আর সুস্বাদু সেগুলোকেই মাশরুম বলে। অন্য কথায় মুলত Basdiomycetes ও Ascomyctesশ্রেণীর ভক্ষনযোগ্য মৃত ছত্রাককে মাশরুম বলে। আমাদের দেশে সাধারনত Basdiomycetesশ্রেণীর মাশরুম চাষ করা হয়।
আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রকার মাশরুম:

গ্রীষ্মকালিন মাশরুম-
১.মিল্কী মাশরুম(Milky white) Calocybe indica
২.ঋষি মাশরুম(Reishi) Ganoderma lucidium
একে ঔষধী মাশরুমও বলা হয়
৩.স্ট্র মাশরুম(Straw) Volvariella volvacea
শীতকালিন মাশরুম
১.শীতাকে(Shitake) Lentinus edodes
২.বাটন(Button) Agaricus sp.
৩.ইনোকি(Enoki) Flammulina velutipes
৪.শিমাজী(Shimaji) Hypsizygus tessulatus
পুরো বছরকালিন মাশরুম
১.ওয়েস্টার মাশরুম(Oyester) Pleurotus sp.

ক্যানসারের কোষ নষ্ট করে দিতে পারে মাশরুম !!

মাশরুমের মৃত টুপির মতো অংশটুকু ক্যানসার রোগের উপশম করতে পারে। শরীরে কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই এটি ক্যানসারের কোষ নষ্ট করে দিতে পারে। এতে সাদা বাটনের মাশরুমের মতো এ এমানিটিন নামের এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। যা রোগীর শরীরে বিদ্যমান ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। শরীরে প্রবেশ করালে এর বিষাক্ত উপাদান সঠিক জায়গায় আশ্রয় নিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে ক্যাপটি রক্তের ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ ধ্বংস করে দেয়। এতে ইপকেম নামক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যা পক্ষাঘাতকৃত কোষগুলোর বিনাশ করে। পাশাপাশি ক্ষতিকর কোষগুলোকে বাড়তে বাধা দেয়। জার্মান ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্র এবং ন্যাশনাল টিউমার ডিজিজ হেইডেলবার্গের এক যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অধ্যাপক ড. হেইঞ্জ ফউলস্টিক এবং ড. জারহার্ড মলডেনহায়ের এ গবেষণাটি সম্পাদন করেন। গবেষণা শেষে তারা একমত হয়েছেন, মানবদেহের কোনো রকমের ক্ষতিসাধন ব্যতিরেকে ছত্রাক জাতীয় এ উপাদানটি কার্যকরভাবে ক্যানসার চিকিত্সায় বিপ্লব এনে দিতে পারে।

ঔষধি মাশরুম ঋষিঃ

ইমিউন সিস্টেম উন্নত করণের আশ্চর্যজনক ক্ষমতা জন্য ২০০০ বছরের পুরানা এশিয়ান পান্ডুলিপিতে রেফারেন্স হিসেবে ঋষি মাশরুমের নাম পাওয়া যায়। এর বিরল ঔষধী গুণ, রাজকীয় স্বাস্থ্য সুবিধা ও দীর্ঘায়ু দানের ক্ষমতার কারণে চীন ও জাপানিজরা একে “গোল্ডেন হার্ব” ও “রয়াল হার্ব” বলতো। এছাড়াও এর গুনের কারণে ঋষি মাশরুম কে “স্বর্গীয় হার্ব” বা “ব্লিজ হার্ব” বা “অমরত্বের মাশরুম” হিসাবে রেফারেন্সে উল্লেখ করা হয়েছে। চীন দেশে এই মাশরুম Lingzhi পরিচিত।
ঔষধিগুণাবলী সম্পন্ন মাশরুম গুলোর মধ্যে এটি বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করেছে, বিশেষ করে চীন, জাপান ও মালয়েশিয়াতে হার্বাল মেডিসিন হিসেবে এই মাশরুমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই মাশরুম দিয়ে ক্যান্সার, টিউমার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের ঔষধ তৈরী করা হয়। এছাড়াও কসমেটিকস্ শিল্পে যেমন- পেস্ট, সাবান, লোশন, শ্যাস্পু, ম্যাসেজ ওয়েল ইত্যাদি এমনকি চা, কফি, চকলেট তৈরীতেও ইহার ব্যবহার বিশ্বে প্রচুর।
বর্তমানে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রে ঋষি মাশরুমের ৭টি স্ট্রেইন (Strain) আছে। স্ট্রেইন গুলি যথাঃ Gl-1, Gl-2, Gl-3, Gl-4, Gl-5, Gl-6 এবং Gl-7. সবগুলি স্ট্রেইনই আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় চাষ উপযোগী এবং ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাগ, লগ, বোতল, ট্যাংক ও জুন সাউ চাষ প্রযুক্তিতে বর্তমানে এই মাশরুম চাষ হচ্ছে। জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র কর্তৃক কাঠের গুঁড়ায় সহজ উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবণ হওয়ায় এ মাশরুম বাংলাদেশে খুব সহজেই চাষ করা যায়।
ইহার সংরক্ষণ ক্ষমতা ও বাজার মূল্য (৩০০০-৯০০০ টাকা) অনেক বেশী হওয়ায় এই মাশরুম এ দেশে বাণিজ্যিক আকারে চাষ করা খুব ই লাভজনক।
পরিবেশগত চাহিদাঃ উচ্চ তাপমাত্রা (২২-৩২ ডিগ্রী সেঃ) ও উচ্চ আদ্রতা (৮৫-৯৫%) পছন্দ করে বিধায় আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে খুব সহজেই চাষ করা যায়।

ওজন কমাতে মাশরুম কীভাবে কাজ করে?

মাশরুমে আমিষ আছে ২৫-৩০%, চর্বি ৫-৬%, ভিটামিন, মিনারেল ও আঁশ ৫৭-৬০%, শকর্রা ৪-৬%। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি মাশরুমের রয়েছে ঔষধিগুণও। মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল, এমন সমন্বয় আছে যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। মাশরুম একটি ভেজষ গুণ সম্পন্ন ও সামান্য ক্যালোরিযুক্ত খাবার। এই খাবারটি কিন্তু অতিরিক্ত ওজন কমাতেও সাহায্য করে। লন্ডন ইউনিভার্সিটি অফ বাফ্যালো’র পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পোর্টোবোলো প্রজাতির মাশরুম খাদকের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও ওজন কমায়।
স্কুল অফ পালবিক হেলথের পুষ্টিবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান গবেষক পিটার হ্যারোভ্যাথ জানিয়েছেন, চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মাশরুম কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। চিনি বা শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই যারা ওজন কমাতে চান তারা লাভবান হতে পারবেন।
পিটার জানিয়েছেন, আমাদের শরীরে প্রত্যেকটি কোষে শর্করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত শর্করা শরীরের কোষগুলো গ্রহণ করতে পারেনা। ফলে অতিরিক্ত শর্করা শরীরে মেদ হিসেবে জমা হয়। আর মাশরুম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখে।
গবেষণার অংশ হিসেবে মিষ্টি পানীয়ের প্রতিক্রিয়ায় শর্করার মাত্রা কেমন থাকে তা দেখার জন্য ১৯ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৮ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীকে দুই সপ্তাহ ধরে ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট পরীক্ষা করা হয়। এদের প্রত্যেককে সমান মিষ্টি তিন ধরনের পানীয় খাওয়ানো হয়। এই পানীয়ের মধ্যে ছিল ৭৫ গ্লুকোজ ড্রিঙ্ক, ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ ড্রিঙ্কের সঙ্গে ৯.৫ গ্রাম পোর্টোবেলো পাউডার, ৯.৫ গ্রাম পোর্টোবেলো পাউডারের সঙ্গে সুগন্ধী পানি।
পরীক্ষার ফল হিসেবে দেখা যায়, গ্লুকোজ ড্রিঙ্কের সঙ্গে পোর্টোবেলো পাউডার খাওয়ার ফলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে গেছে।
এই গবেষণার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই পরীক্ষায় এটা স্পষ্ট যে মাশরুম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গ্রাহকের ওজনে ভারসাম্য রাখে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মাশরুম প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবারে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও তেমন পরিচিতি পায়নি। মাশরুম ফ্রাই, মাশরুম মাংস, মাশরুম মাছ, মাশরুম সবজি, মাশরুম স্যুপ, মাশরুম নডুলস, মাশরুম ওমলেট, মাশরুম ভর্তাসহ মাশরুম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়।

সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে মাশরুমমাশরুমের গুনাগুন

মাশরুমে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন বি, সি এবং ডি থাকায় হৃদরোগ, বেরি বেরি, স্কার্ভি রোগীর খাদ্য হিসাবে ব্যবহারকরে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। বিশ্বের স্বনামধন্য মাশরুম বৈজ্ঞানিক চীনের এসটি চ্যাঙ্গ এর মতানুসারে, এতদিন বিশ্ববাসীর কাছে মাশরুমের কদর ছিল প্রধানত পুষ্টিগুণের খাদ্য হিসাবে। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন মাশরুম ভেষজ গুণাগুণের জন্য অধিক সমাদৃত। তিনি মাশরুমের ভেষজ উপাদানকে মাশরুম নিউট্রিসিউটিক্যালস নামে অভিহিত করেন। নিউট্রিসিউটিক্যালস বলতে প্রধানত মাশরুম থেকে উৎপাদিত ভেষজ ক্যাপসুল, ট্যাবলেট, তরল নির্যাস ইত্যাদিকে বোঝানো হয়। মাশরুম নিউট্রিসিউটিক্যালস স্থায়ী খাদ্য নয়, বিকল্প পুষ্টি এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।
চিকিৎসকেরা মাশরুমকে এক সময় প্রাকৃতিক ইনসুলিন, আবার আরেক সময় প্রাকৃতিক অ্যান্টি বায়োটিক হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। দেহের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ ও দেহের বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন দূর করতে ভালো কাজ করে মাশরুম।  মাশরুমে ভিটামিন বি আছে প্রচুর পরিমাণে। ভিটামিন বি খাদ্যকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে। আর গ্লুকোজ থেকেই তৈরি হয় আমাদের দেহের শক্তি।। ভিটামিন বি খাদ্যবিপাক প্রক্রিয়াকেও সক্রিয় করে। নিরামিষভোজিদের জন্য এটা একটা মজাদার খাবার। পাশাপাশি মাশরুম পাসতা, ওমলেট, বিফ রোল, চিকেন স্যান্ডউইচ কিংবা ফিশ ফ্রাইয়ে ব্যবহার করলে স্বাদের সাথে বাড়ে খাবারের পুষ্টিগুণ।
মাশরুম অত্যন্ত স্বাস্থপ্রদ খাবার। দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দমনে মাশরুমের জুড়ি নেই। এতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টি বায়োটিক ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।
মাশরুম কোলেস্টোরাল শূন্য। এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও খুবই সামান্য। এতে যে এনজাইম ও ফাইবার আছে তা দেহে উপসি’ত বাকি ব্যাড কোলেস্টোরালের বসতিও উজাড় করে দেয়। মাশরুম একমাত্র সবজি ও দ্বিতীয় খাদ্য উপাদান (প্রথম কডলিভার ওয়েল) যাতে ভিটামিন ডি ভোজ্য আকারে পাওয়া যায়। অন্য কোনো খাদ্য উপাদানে ভোজ্য আকারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না।
মাশরুমে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়াম। সেলেনিয়াম উপাদানটি শুধু মাছেই পাওয়া যায়। যারা পুরোপুরি নিরামিষভোজি তারা মাশরুমের মাধ্যমে এই উপকারী উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন।
মাশরুমে আরো আছে এরগোথিওনেইন নামে এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মানবদেহের জন্য ঢালের মতো কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি অনেক ব্যাকটেরিয়াও দমন করে।

মাশরুমের বেশ গুন রয়েছে যেনেনিন গুনগুলো কি কি
১। মাশরুমে চর্বি ও শর্করার পরিমান থাকে অনেক কম এবং আশঁ বেশি থাকে । তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার ।
২। মাশরুমের আছে ইরিটাডেনিন, লোভাস্টটিন এবং এনটাডেনিন যেগুলো শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান । তাই নিয়মিত মাশরুম খেলে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ থেকে দূরে থাকা যায় ।
৩। মাশরুমে আছে বি-ডি গ্লুকেন, ল্যাম্পাট্রোল, টারপিনওয়েড ও বেনজোপাইরিন যেগুলো ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে থাকে ।
৪। মাশরুমে আছে ট্রাইটারপিন যা বর্তমান বিশ্বে এইডস প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ।
৫। মাশরুমে আছে এডিনোসিন থাকায় যা ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধক ।

বেশিরভাগ সবজির খোসা, বীজ, বোটা ইত্যাদি খাওয়ার উপযুক্ত নয়। কিন্তু মাশরুমের প্রতিটি অংশ খাওয়ার উপযুক্ত। উপজাত বর্জ্য অংশ বলতে মাশরুমে কিছু নেই। মোট কথা, মাশরুম হল সুস্বাদু, পুষ্টিকর, খাদ্যশক্তি ও ঔষধীগুণে ভরপুর।

মাশরুমের পরিচিতি

মাশরুমের গুনাগুন
মাশরুমের পরিচিতি
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর পছন্দের খাবারগুলোর মধ্যে মাশরুম ছিলো অন্যতম। বিশ্বে যত স্বাস্থ্যকর খাবার আছে তার মধ্যে মাশরুম অন্যতম। অথচ না জেনে না বুঝে আমরা একে ব্যাঙের ছাতা মনে করে অবজ্ঞা করি। মাশরুমের পুষ্টিমান ও ওষুধীগুণ অনেক। অন্য যে কোনো সবজির মত একে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
আল-কুরআন ও হাদিসের ভাষায়, “মাশরুমকে একটি স্বর্গীয় খাবার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যে কারণে এটি রোগ নিরাময়ের এক আশ্চর্য নিরাময়ক”।
মাশরুমের পুষ্টিগুন
ভেজিটেবল এর জগতে এটি “মাংশ” ; থায়ামিন, রিভোফ্লাভিন, নায়াসিন, প্যান্টোথেনিক এসিড এই সব ভিটামিন–বি তে এরা ভরপুর । ভিটামিন বি খাদ্যকে গ্লুকোজে রূপান-রিত করে। আর গ্লুকোজ থেকেই তৈরি হয় আমাদের দেহের শক্তি।। ভিটামিন বি খাদ্যবিপাক প্রক্রিয়াকেও সক্রিয় করে। এতে মিনারেলস পাবেন সেলেনিয়াম, কপার, জিঙ্ক এবং পটাশিয়াম । ফাইবার পাবেন ৩০গ্রাম% , প্রোটিন ১৭গ্রাম % আর সেল্যুলোজ পাবেন ৫৫গ্রাম % ; মাশরুম কোলেস্টোরাল শূন্য। এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও খুবই সামান্য। এতে যে এনজাইম ও ফাইবার আছে তা দেহে উপসি’ত বাকি ব্যাড কোলেস্টোরালের বসতিও উজাড় করে দেয়। মাশরুম একমাত্র সবজি ও দ্বিতীয় খাদ্য উপাদান (প্রথম কডলিভার ওয়েল) যাতে ভিটামিন ডি ভোজ্য আকারে পাওয়া যায়। অন্য কোনো খাদ্য উপাদানে ভোজ্য আকারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না। আর এক আউন্স মাশরুম থেকে আপনি পাচ্ছেন ২০ ক্যালোরী শক্তি ।
এছাড়া আরো অনেক পুষ্টিগুণ আছে মাশরুমের। তাই আমাদের মাশরুম খাবার অভ্যাস করা দরকার। মাশরুম মাংসের বিকল্প হিসেবে খাওয়া যায়। মাশরুমে মাছ -মাংস ও শাকসবজির চেয়ে দ্বিগুণ খনিজ পদার্থ আছে। আমিষের পরিমান শাকসবজির চেয়ে চারগুণ।
মাশরুমের গুনাগুন
নিয়মিত মাশরুম খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নতি হয়।গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য এটা একটি ভাল দাওয়াই ।
মাশরুমে চর্বি ও শর্করা কম এবং আঁশ বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভাল ।
মাশরুমে প্রচুর ক্যালসিয়াম , ফসফরাস ও ভিটামিন ডি আছে। যা শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মাশরুমে আছে প্রচুর ফলিক এসিড ও লৌহ , যা রক্তশূন্যতা দূর করে।এতে লিঙ্কজাই-৮ পদার্থ আছে যা হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধক।
মাশরুমে ট্রাইটারপিন থাকায় এটা বিশ্বে এইডস প্রতিরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাশরুমে ইলুডিন এম ও এস থাকায় এটা আমাশয় প্রতিরোধী।
মাশরুমে এডিনোসিন থাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিরোধক।
মাশরুমে আছে এনজাইম ,যা হজমে সহায়ক ও পেটের পীড়া দূর করে।
মাশরুমে আছে নিউক্লিক এসিড ও অ্যানটি-এলারজেন যা কিডনি রোগ প্রতিরোধক।
মাশরুমে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়াম। সেলেনিয়াম উপাদানটি শুধু মাছেই পাওয়া যায়। যারা পুরোপুরি নিরামিষভোজি তারা মাশরুমের মাধ্যমে এই উপকারী উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন।
মাশরুমে আরো আছে এরগোথিওনেইন নামে এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মানবদেহের জন্য ঢালের মতো কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি অনেক ব্যাকটেরিয়াও দমন করে।
এছাড়াও মাশরুম যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে, মেদ ভুড়ি কমাতে সাহায্য করে,এলার্জি রোগের মহা ঔষধ,অর্শ রোগ প্রতিরোধক,চর্ম রোগে উপকারি,বয়স্কদের আদর্শ আমিষ,এজমা রোগ নিরাময়ক,রুপচর্চায় অতুলনীয়,ক্যানসার ও টিউমার প্রতিরোধক,চুলপড়া ও পাকা রোধ করে,রক্তস্বল্পতা দূরকরে,হ্রদরোগ প্রতিরোধ করে,উচ্চ রক্তচাপ নিরাময়ক, যৌন অক্ষমতা দূর করে
মাশরুমের ব্যাবহার
মাশরুম অত্যন্ত স্বাস্থপ্রদ খাবার। নিরামিষভোজিদের জন্য এটা একটা মজাদার খাবার। পাশাপাশি মাশরুম পাসতা, ওমলেট, বিফ রোল, চিকেন স্যান্ডউইচ কিংবা ফিশ ফ্রাইয়ে ব্যবহার করলে স্বাদের সাথে বাড়ে খাবারের পুষ্টিগুণ।
১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। পক্ষান্তরে আমরা যা অতি নামী-দামি খাবার হিসেবে মাছ, গোশত, ডিম খেয়ে থাকি তার মধ্যে ১০০ গ্রাম মাছ, গোশত ও ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ হলো ১৬-২২ গ্রাম, ২২-২৫ গ্রাম ও ১৩ গ্রাম মাত্র। এজন্যই মাছ, গোশত, ডিমের বিকল্প হিসেবে মাশরুম খাওয়া যায়। মাছ,মাংশ, ডিম এর চেয়ে তুলনামূলক সস্তা বলে এটিকে আমিষের চাহিদা পূরণে খাদ্য তালিকায় যোগ করা যেতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে মাশরুমেই সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ও মিনারেল বিদ্যমান। তাই ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব পূরণেও মাশরুম ব্যাবহার করা যায়।

DXN এর কোন পণ্য ঔষুদ নয়,উচ্চমান সম্পন্ন সম্পূরক খাদ্য ।

দয়াকরে মনে রাখবেন আমাদের এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিৎসা নয়, জ্ঞানার্জন। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা করা/নেওয়া কোন মতেই উচিত নয়।গর্ভাবস্থায় যে কোন ঔষুধের ব্যাপারে দয়াকরে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।

৷৷ বন্ধুরা যদি আমার লেখায় কোন ভুল থাকে ক্ষমা করবেন।আমাদের পোষ্টগুলো যদি আপনাদের ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

🔥17
বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *